সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে উন্নত বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী দেড় বছর ধরে অচল অ্যাম্বুলেন্স, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত জুনে সুনামগঞ্জে ১১ দুর্ঘটনায় নিহত ১০ তাহিরপুরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে নৌযান ধর্মঘট জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ আর দেশে রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট বিভাগের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত ধোপাজান নদীতে ড্রেজার-বোমা আগ্রাসন রোধে গণপ্রতিরোধের ডাক সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব, বিলীনের পথে ছয় গ্রাম ৭ চিকিৎসক বদলিতে সেবা দিতে হিমশিম সদর হাসপাতাল দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অফিস, দেখা নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‎জামালগঞ্জে দুই সাজাপ্রাপ্তসহ তিন আসামি গ্রেপ্তার জামায়াত শরিয়াহ রাষ্ট্র চায়, যা দেশের মানুষের চাওয়ার সঙ্গে যায় না : মির্জা ফখরুল সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করলে প্রয়োজনে বাঘের গর্জন করা হবে : শফিকুর রহমান ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে চলবে হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী নিত্যপণ্যের বাজারে নজর রাখবে এআই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী পুকুর ও কৃষিজমি থেকে কোটি টাকার বালু লুট চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল হতে পারে

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলে পারিবারিক নেতৃত্ব

  • আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১২:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১২:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলে পারিবারিক নেতৃত্ব
মোহাম্মদ আব্দুল হক:: রাজনীতিতে হুটহাট দৌড়ঝাঁপ দেয়া যেমন কঠিন, তেমনি প্রায় শতবর্ষী ইতিহাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের খুব তাড়াতাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কঠিন। তবে বিলীন হওয়ার ইতিহাস আছে। অল্প খোঁজ নিলে দেখা যায়, ব্রিটিশ শাসন পরবর্তী ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক নেতৃত্ব বা নির্দিষ্ট কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের উপর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের ভাগ্য ঝুলে থাকার প্রবণতা প্রায় শত বছরের। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমরা যখন একটু একটু ব্রিটিশ শাসন, ১৯৪৭-এর ভারত-ভাগ পরবর্তী ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পরে স্বাধীন বাংলাদেশসহ তিনটি দেশের বড়ো রাজনৈতিক দল এবং ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বুঝতে শিখেছি, তখন থেকে ভারতের কংগ্রেস, পাকিস্তানের পিপিপি ও বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ এবং সেই সাথে বঙ্গবন্ধু, ভুট্টো ও ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে পড়তে শুরু করেছি। ইতিহাসের পাঠ নিতে গিয়ে তখন আরও কিছুটা এগিয়ে খুঁজে পেয়েছি মহাত্মা গান্ধী (মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী), কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী। এ পর্যন্ত ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অধ্যায়ে রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রসঙ্গ এই আলোচনার গভীরে ইতিহাসের পাতায় আছে। আমার মনগড়া বানানো কিছু নয়। সেটা আপনারা ইতিহাস থেকে জেনে নিতে পারেন। এখানে উল্লেখ করছি, আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র যুদ্ধ আরেকটা বড়ো অধ্যায় আছে যা হঠাৎ হয়নি। বরং পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে রাজপথে আন্দোলন করতে করতে এগিয়েছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সামরিক সৈনিক, সাধারণ সৈনিক ও সাধারণ মানুষ সরাসরি জড়িত। এখানে ইতিহাসের আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি, মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এগারোটি সেক্টর, পাকিস্তানি মিলিটারির আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতির কথা আছে - ইতিহাস পাঠে বারবার জেনে নেয়া যায়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় আছে দেশি-বিদেশি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। এসব ইতিহাস কখনও কখনও কারোর দৃষ্টিতে সগৌরবে উচ্চারণ করা অপরাধ মনে হলেও, বাস্তবতা হচ্ছে ইতিহাস ইরেজারে ঘষে একেবারে মুছে ফেলা যায় না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৪-এর ছাত্র জনতার গণআন্দোলন পরবর্তী সময়ে একটি বৃহৎ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ একেবারে কোণঠাসা হয়ে গেছে। প্রথমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছিল প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ এ একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে যা পরবর্তীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ওই অধ্যাদেশটিকে সংসদে আইনে বৈধতা দেয়া হয়। একটা বড়ো রাজনৈতিক দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ, এর মানে এ নয় যে এদেশে আর কোনো মানুষ আওয়ামী লীগ সমর্থন করে না, অথবা এদেশে আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থক নাই। মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয়, বরং এটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল। তাহলে আওয়ামী লীগ কি আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে? নাকি আর কখনও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না? এ প্রশ্ন সচেতনমহলে সচেতন আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে। দেখা যাক সময়ে তা কোনদিকে অগ্রসর হয় বা কোনদিকে বিলীন হয়ে যায়। যদিও আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে অনেক অনেক দীর্ঘ আলোচনা করা যায় এবং অনেক দীর্ঘ লেখা উপস্থাপন করা যায়, তবুও পরিসর বিবেচনায় নিয়ে এবং পাঠকের যাতে ধৈর্যচ্যুতি না-ঘটে সেদিকে লক্ষ রেখে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন করছি। শুরু করেছিলাম ভারত উপমহাদেশের তিনটি দেশের প্রায় শতবর্ষী তিনটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের পারিবারিক নেতৃত্ব নির্ভরতা নিয়ে। এখানে সংক্ষেপে এভাবে দেখতে পাই - ক্ষমতায় যখন ভারতের কংগ্রেস > ইন্দিরা গান্ধী হয়ে রাহুল গান্ধী। এরপর কেবল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা। ক্ষমতায় যখন পাকিস্তানের পিপিপি > জুলফিকার আলি ভুট্টো হয়ে বেনজির ভুট্টো। এরপর কেবল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা। ক্ষমতায় যখন বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ > শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে শেখ হাসিনা। এরপর কেবল????? দাঁড়াবে নাকি চলবে নাকি দৌড়াবে????? এপর্যায়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জাগে। আমার মনেও প্রশ্ন জাগে। সে থেকেই অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে খোঁজ নিয়ে এই লেখা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতে দীর্ঘ বছর অপেক্ষা শেষে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের আবারও ক্ষমতা পাওয়ার ইতিহাস আছে। তবে এক্ষেত্রে প্রচুর ধৈর্য্য নিয়ে রাজনীতি করে জনগণের মন জয় করতে হয়েছে। হুটহাট কোনো সফলতা আসে না। রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী বা সমর্থককে শুধু নিজের দলের কথা ভাবলে হয় না। রাজনীতিতে সফলতা পেতে হলে সারা দেশের জনগণের চিন্তা কোনদিকে সেটা অধিক গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে। একজন নাগরিক হিসেবে আমার জানা ইতিহাস থেকে, উপরের অনেকগুলো প্রশ্নবোধক চিহ্ন যেখানে, সেখান থেকে আমি বলতে পারি, যদি আওয়ামী লীগ নিজেদের অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে, সময়ের চ্যালেঞ্জকে বিনয়ের সাথে মেনে নিয়ে আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব সামনে আনতে পারে, পুরোনো ধাঁচের স্লোগান ও বক্তব্য নির্ভরতা কমিয়ে সময়ের তরুণ-তরুণীর জ্ঞানকে সম্মান জানাতে পারে, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা ঝেড়ে ফেলতে পারে এবং নতুন প্রজন্মের জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে তবে হয়তো দাঁড়িয়ে যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করে আসতে হবে। হুমকি-ধমকি দিয়ে আসা কঠিন। প্রিয় পাঠক, আমি আমার কথা বললাম। হ্যাঁ, অবশ্যই আপনারও বলার থাকতে পারে। এটাই গণতান্ত্রিক এবং এভাবে গঠনমূলক আলোচনা করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে মনে করি। আমাদের বোধোদয় হোক। [লেখক মোহাম্মদ আব্দুল হক, কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে উন্নত বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে উন্নত বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী